সোমবার । ৪ঠা মে, ২০২৬ । ২১শে বৈশাখ, ১৪৩৩

ট্রাম্পের হাতে ‘ওয়াইল্ড কার্ড’, কী ইঙ্গিত দিলেন তিনি?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে আলোচনায় এসেছে একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্ট। হোয়াইট হাউস থেকে প্রকাশিত একটি ছবিতে দেখা যায়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হাতে উনো কার্ড ধরে আছেন। ব্যতিক্রমধর্মী এই পোস্ট করে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন তিনি।

গত ২ মে ট্রাম্প তার নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে ছবিটি শেয়ার করেন, যেখানে তাকে জনপ্রিয় কার্ড গেম উনো-এর ছয়টি “ওয়াইল্ড” কার্ড হাতে ধরে থাকতে দেখা যায়। ছবিটির সঙ্গে লেখা ছিল— “আই হ্যাভ অল দ্য কার্ডস”। যার অর্থ- ‘আমার হাতেই সব কার্ড’।

ছবিটি রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেও ব্যাখ্যা করা হচ্ছে, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে। তবে একই সঙ্গে এটি নিয়ে মজার একটি দিকও সামনে এসেছে। কারণ, উনো খেলায় মূল লক্ষ্য হচ্ছে যত দ্রুত সম্ভব নিজের সব কার্ড ফেলে দেওয়া-অর্থাৎ হাতে বেশি কার্ড থাকা জেতার জন্য সুবিধাজনক নয়।

গেমটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ম্যাটেল-এর নিয়ম অনুযায়ী, একজন খেলোয়াড় যখন তার সব কার্ড শেষ করে, তখন অন্য খেলোয়াড়দের হাতে থাকা কার্ডের ভিত্তিতে পয়েন্ট দেওয়া হয়। “ওয়াইল্ড” কার্ডের প্রতিটির মূল্য ৫০ পয়েন্ট। সেই হিসেবে ছবিতে দেখানো ছয়টি “ওয়াইল্ড” কার্ড থাকলে মোট ৩০০ পয়েন্ট প্রতিপক্ষের ঝুলিতে যেতে পারে-যা জয়লাভের জন্য উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি।

এ কারণে ট্রাম্পের পোস্টটি যেমন রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে ব্যাখ্যা পাচ্ছে, তেমনি গেমের নিয়ম বিবেচনায় এটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে হাস্যরসও তৈরি হয়েছে।

এই পোস্টটি এমন সময় করা হয়েছে, যখন হরমুজ প্রণালী নিয়ে বিরোধ এবং তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

ট্রাম্প ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে একটি নৌ অভিযানের ঘোষণা দিয়েছেন, যার লক্ষ্য হরমুজ প্রণালীতে আটকে পড়া জাহাজগুলোকে বের করে আনা। আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই অভিযান শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

তবে এর প্রেক্ষিতে ইরানের শীর্ষ আইনপ্রণেতা ইব্রাহিম আজিজি বলেছেন, ‘প্রণালীটিতে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো হস্তক্ষেপ যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে।’

তিনি বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু করার আগে হরমুজ প্রণালীর যে স্থিতাবস্থা ছিল, তা আর কখনো ফিরে আসবে না।’

ইরানের একটি খসড়া আইনে ইসরায়েলি জাহাজ চলাচল স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করা হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের মিত্রতার কারণে “শত্রুভাবাপন্ন” হিসেবে বিবেচিত দেশগুলোর যাতায়াত বন্ধ করে দেওয়া হবে।

এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধ শেষ করার জন্য তাদের সর্বশেষ ১৪-দফা প্রস্তাবের জবাবে ওয়াশিংটনের প্রতিক্রিয়া তারা খতিয়ে দেখছে। ট্রাম্প তেহরানের এই প্রস্তাবকে “অগ্রহণযোগ্য” বলে আখ্যা দিয়েছেন।

১৪-দফা প্রস্তাবের জবাবে ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের দেওয়া নতুন প্রস্তাব গ্রহণ হওয়ার সম্ভাবনা কম। তার দাবি, গত কয়েক দশকের কর্মকাণ্ডের জন্য ইরান এখনো যথেষ্ট মূল্য দেয়নি।

রোববার ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প আবারও সামরিক হামলার হুমকি দেন। তিনি বলেন, ইরান যদি কোনো ‘অসদাচরণ’ করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।

ইরানের পক্ষ থেকে ১৪ দফার একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যেখানে ৩০ দিনের মধ্যে যুদ্ধ শেষ করার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। এতে অবরোধ তুলে নেওয়া, জব্দ সম্পদ ফেরত দেওয়া, ভবিষ্যতে হামলা না করার নিশ্চয়তা এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার দাবি রয়েছে। তবে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পরে করার প্রস্তাব দিয়েছে তেহরান।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন